হাবিপ্রবি থেকে উপাচার্য চান হাবিপ্রবি’র শিক্ষার্থীরা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) উপাচার্যও পদত্যাগ করেন৷ পরবর্তীতে হাবিপ্রবির প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন অধ্যাপক ড. হাসান ফুয়াদ এল তাজ।
তিনি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক।
এখন বিভিন্ন সূত্র থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে উপাচার্য নিয়োগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত বুধবার (১৮ই সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাবিপ্রবির একমাত্র সাংবাদিক সংগঠন শিক্ষার্থীদের মতামত যাচাইয়ের জন্য তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে "কোথায় থেকে উপাচার্য চায় হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা" শীর্ষক একটি পোল তৈরি করে।
সাংবাদিক সংগঠন সমিতির তৈরিকৃত এই পোলে এই নিউজ লেখা পর্যন্ত সর্ব মোট ভোট আসে ২১১৯ জন শিক্ষার্থীর। যেখানে দেখা যায়, নিজ বিশ্ববিদ্যালয় (মানে হাবিপ্রবি) থেকে উপাচার্য চান প্রায় ১৪৬২ জন (৭০%) এবং বাইরে থেকে চান ৬৫৭ জন (৩০%) শিক্ষার্থী।
নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ই থেকেই উপাচার্য চাই। বিগত সময়ে যারা বাইরে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে এসেছিলেন তারা ঠিক মতো দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। কারণ বাইরে থেকে যারা আসেন তারা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তেমনটা অবগত থাকেন না। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো ও পরিবেশ বুঝে উঠতেই তাদের পুরোটা সময় চলে যায়। এই ছাড়াও হাবিপ্রবি থেকে উপাচার্য নিয়োগ হলে তিনি পূর্ব থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, সংস্কৃতি এবং শিক্ষার্থীদের চাহিদা সম্পর্কে গভীরভাবে অবগত থাকবেন। যার ফলে উপাচার্য সহজেই দ্রুততার সহিত যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন।
এছাড়াও নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও ইতিহাস সম্পর্কে জানেন, যার ফলে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারবেন। শুধু তাই নয় তিনি আগের পরিকল্পনা ও প্রোগ্রামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হবেন। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ হবে।
অন্যদিকে হাবিপ্রবির বাইরে থেকে যে-সব শিক্ষার্থী উপাচার্য চান তারা জানান, আমরা মনে করি নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ হলে শিক্ষক ও ছাত্ররাজনীতি বেড়ে যাবে এবং উপাচার্যের পক্ষপাত করার সম্ভাবনা রয়েছে৷
তাছাড়াও বেশ কিছু হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী মতামত প্রদান করেছেন যে, হাজী মোহাম্মদ দানেশ একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও বারবার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি যৌক্তিক নয়।